মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি বা টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছে সংঘবদ্ধ একটি মাটিখেকো চক্র। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনদুপুরেই স্কেবেটর বসিয়ে চলছে মাটি কাটা ও বহনের কাজ। এতে আশঙ্কাজনক হারে কমছে আবাদি জমি, নষ্ট হচ্ছে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এই কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
দীর্ঘদিন ধরে রায়পাশা, চর-জাঙ্গালীয়া, পাচুড়িয়া, কানুটিয়া, পলাশবাড়িয়া ও জাঙ্গালিয়া এলাকায় মধুমতি নদীর পূর্বপাশের ফসলি জমি থেকে দেদারসে মাটি কাটা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি স্কেবেটর দিয়ে একটানা মাটি কেটে ৪ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে। অর্ধশত ট্রলি, ট্রাক্টর ও ড্রামট্রাকে করে এসব মাটি বহন করে নেওয়া হচ্ছে আশপাশের ইটভাটায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোথাও কোথাও বসতবাড়ির পাশ ঘেঁষেই গভীর গর্ত করে মাটি কাটা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। চর জাঙ্গালীয়া গ্রামের বাসিন্দা খোকন মিয়া বলেন,
আমার বাড়ির পাশ থেকে প্রায় ১০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়েছে। যেকোনো সময় আমার ঘর ভেঙে ওই গর্তে পড়ে যেতে পারে। আমি নিষেধ করলেও কেউ শোনেনি। এখন পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি।
জাঙ্গালিয়া গুচ্ছ গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেন, চলাচলের প্রধান সড়কের পাশেই গভীর গর্ত করে মাটি কাটা হয়েছে। ফলে যে কোনো সময় রাস্তাটি ধসে পড়তে পারে। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফসলি জমির টপ সয়েল স্তরেই থাকে সবচেয়ে বেশি জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পিযুষ রায় বলেন,
টপ সয়েল হলো ফসল উৎপাদনের প্রাণ। এটি কেটে নিলে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। এই স্তর পুনরায় তৈরি হতে বহু বছর সময় লাগে। একবার নষ্ট হলে জমি ধীরে ধীরে অনাবাদি হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন,
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী কৃষিজমির মাটি কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মালিকের দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের চোখের সামনেই একটি কুচক্রি মহল এভাবে মাটি কেটে নিচ্ছে। এতে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত স্থায়ীভাবে এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. শাহনুর জামান বলেন,
বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। কেউ যদি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটা বন্ধ করা এবং মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনলেই এই অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।