
মাগুরা জেলা উপজেলার সুলতানসী গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইরি ধানের বীজতলায় (পাতো) বিষ প্রয়োগ করে চারা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. কামরুজ্জামান কালু (৫৮) বাদী হয়ে একই গ্রামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মহম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— সুলতানসী গ্রামের মৃত শাহাজান মৃধার ছেলে গোলাম আকবর মৃধা (৮০) ও গোলাম তকব্বার মৃধা (৬৮)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুলতানসী মৌজার এস.এ ৪৪২নং দাগের ৫৩ শতক জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ভুক্তভোগী কামরুজ্জামান কালু দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধান রোপণের প্রস্তুতি হিসেবে ওই জমির উত্তর সীমানার প্রায় ১৫ শতক জায়গায় তারা ধানের বীজতলা তৈরি করেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক সোয়া ৬টার দিকে কামরুজ্জামান কালু ও তার ভাই পানু মৃধা জমিতে যাওয়ার পথে দেখতে পান, অভিযুক্ত গোলাম আকবর মৃধা জমির আইলে দাঁড়িয়ে আছেন এবং গোলাম তকব্বার মৃধা স্প্রে মেশিনের সাহায্যে ধানের চারার ওপর বিষাক্ত তরল ছিটাচ্ছেন। এসময় তারা চিৎকার করলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে দুপুরের দিকে দেখা যায়, বিষক্রিয়ার কারণে বীজতলার সব চারা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষকের রোপণের উপযোগী সব চারা ধ্বংস হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কামরুজ্জামান কালু বলেন,
ধান রোপণের ঠিক আগমুহূর্তে এভাবে আমার চারাগুলো নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে আমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। নতুন করে চারা তৈরি করতে সময় ও অর্থ দুটোই লাগবে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ধরনের কাজ কৃষি ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
মহম্মদপুর থানার পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।