মাগুরা প্রতিনিধি || মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার আমিনুর রহমান কলেজে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনের পর এক শিক্ষার্থীর ওপর লোহার রড দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র রমজান গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে কলেজের মেইন গেট সংলগ্ন প্রধান সড়কে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করে। তারা অভিযোগ করে, গত সোমবার কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে আকিব, আলিমুল, মারজানসহ কয়েকজন বহিরাগত ছাত্র অসৌজন্যমূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করে। ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, অযৌক্তিক সুবিধা না দেওয়ার কারণে অধ্যক্ষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। রমজান ও লিজাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বহিরাগতদের এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের দ্রুত শাস্তি দিতে হবে। মানববন্ধন শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রথম বর্ষের ছাত্র রমজানের ওপর হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসি ফুটেজ অনুসারে, অভিযুক্ত আকিব হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে কাজী সালিমা হক মহিলা ডিগ্রি কলেজের কাছে ডেকে বাইক থামায়। এরপর আকিব হাসান কোমর থেকে লোহার রড বের করে রমজানের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। এতে রমজান গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আকিব, মারজান, আলিমুলসহ কিছু বহিরাগত ছাত্র অযৌক্তিক সুবিধা চেয়েছিল। যে ভিডিওটি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল, তাদের এই অযৌক্তিক দাবি না মানায় তারা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করলেও পরবর্তীতে হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি তানভির রহমান সোহেল বলেন, কলেজের পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টাকারী ও এরকম ন্যক্কার জনক ঘটনার সাথে জড়িত থাকা অদৃশ্যমান যোকোন কালো শক্তি কে কঠোরভাবে দমন করা হবে। হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশরাফুজ্জামান বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘটনাটি মহম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকদের সম্মান ও ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।